সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির পঞ্চম দিন: যুক্ত হলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও

Sharing is caring!

ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগ চালুসহ অন্যান্য সকল বিভাগ চালুর দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির পঞ্চম দিন অতিবাহিত। এরই মধ্যে আন্দোলনকারিদের সাথে যুক্ত হয়েছে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। আর সুযোগ বুঝে ওষুধ কোম্পানির খরচে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণে গেলেন চিকিৎসক শিক্ষকদের একাংশ। রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে না পারায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা অনেক অংশে কমে গেছে বলে জানালেন কর্তৃপক্ষ। ফলে ভোগান্তিতে সাধারণ রোগীরা।
রোববার সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুরুষ বিভাগে গিয়ে দেখা যায় মাত্র পাঁচজন রোগী অবস্থান করছেন। তবে কার্ডিয়াক বিভাগে প্রতিটি বেডে রোগীর অবস্থান দেখা যায়। সেখানে অধ্যাপক ডা. কাজী আরিফ রোগীদেরকে নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি বলেন, সাধারণ রোগীদের চাইতে জরুরী যেসব মুমূর্ষ রোগী রয়েছে তাদের চিকিৎসা দিতে হলে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকদের থাকার দরকার কিন্তু তারা না থাকায় চিকিৎসা সেবায় মারাত্মক বিঘিœত হচ্ছে।
জরুরী বিভাগ চালু ও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল ব্যবস্থার দাবিতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি কর্মসূচির পঞ্চম দিনে রবিবার দুপুর আড়াইটায় মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে ক্যাম্পাস।

দুপুর আড়াইটায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. হুমায়ুন কবির। সমাবেশ পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ডা. মিয়া আমিনুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন ডা. ফারিহা আক্তার টুম্পা, ডা. রবিউল হাসান সুমন, ডা. জেবা তাহসিন অনন্যা, ডা. কবির আলম, ডা. রবিউল ইসলাম রাহাত, ডা. লিয়া ফারহানা। সমাবেশে সাধারণ মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও যুক্ত হয়ে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন, হাসান তাহসিন, আজাদুল ইসলাম, আমিনুর রহমান ও আল শাহরিয়ার।

নার্সিং সুপার ভাইজার অপর্ণা রাণী পাল ও তৌহিদা পারভিন বলেন, ইন্টার্নদের দাবি যৌক্তিক কিন্তু তাদের এই কর্মবিরতীর কর্মসূচিতে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তার নার্সদের।
অপরদিকে আন্দোলনে উত্তাল ও চিকিৎসার পরিবেশ না থাকায় সাধারণ রোগীদের অসহায় অবস্থায় পড়তে দেখা যায় এবং হাসপাতাল ছাড়তে দেখা যায়।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, ইন্টার্ন ডাক্তারদের দাবির ব্যাপারে ডিজি পর্যায়ে আলাপ আলোচনা চলছে ইতোমধ্যে ৬জন চিকিৎসক প্রেরণের নির্দেশ দিলেও এখনও তারা আসেননি। নতুন চিকিৎসকরা আসলেই জরুরী বিভাগের কার্যক্রম শুরু হবে এমন আশ^াস দিয়ে আন্দোলনরত ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতের আহবান জানান। তিনি রোগীদের প্রতি মানবিক হওয়ার জন্য ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এ কর্মসূচিতে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ডাক্তার নার্সদের ফলে ফিরে আসার অনুরোধ করেন।
একদিকে আন্দোলন, অন্যদিকে কিছু চিকিৎসক জেলার বাইরে অবস্থান করায় সংকটে যুক্ত হয়েছে অন্য মাত্রা। তাদের অবস্থান জানতে চাইলে-তারা একটি সেমিনারে যোগদিতে কক্সবাজারে রয়েছে বলে জানান তত্ত্বাবধায়ক ডা. রফিকুল ইসলাম। তবে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজি হাবিবুর রহমান জানান, আমি এখন ঢাকায় আছি, ৫৬জন চিকিৎসকের মধ্যে ২০জন চিকিৎসক সাতক্ষীরার বাইরে ট্রেনিংএ আছে দাবী করে বলেন রোববার রাতেই তারা সাতক্ষীরায় ফিরবেন।
প্রসঙ্গত: দেশের আরও কয়েকটি নতুন কলেজের সাথে ২০১১ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৫০ শয্যা হাসপাতালটি ৫০০ শয্যা ও স্বাভাবিক ভাবে জরুরী বিভাগ এবং পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল ব্যবস্থা নিয়ে চলার কথা তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক জানালেও তা চালু হয়নি। পরবর্তি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবন উদ্বোধন করতে এসেও একই কথা জানালেও তা কথার কথা থেকে যায় বলে জানান ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. হুমায়ুন কবির।
ডা. মাহমুদা আক্তার মৌসুমী বলেন, এ কর্মবিরতির কর্মসূচিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। তাদের জীবন থেকে পাঁচ দিনের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হারিয়েছে। কিন্তু তার থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে জরুরী বিভাগ চালু না থাকা এবং পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাস্তব জ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি জানান, ‘আমরা তো ক’দিনের মধ্যে চলে যাবো কিন্তু আমাদের এই ক্ষতি যেন এরপর আর কোন প্রজন্মকে বহন করতে না হয় তার জন্য এই আন্দোলন।

newsadmin

সাতক্ষীরার গণমানুষের পত্রিকা--

shares